শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬

মানুষের পরিবর্তন হয় তাই বলে এত দ্রুত?


প্রথমে আমরা খাদিজাকে নিয়ে মর্মাহত হয়েছি, হয়েছি পীড়িত। প্রতিবাদ করেছি যে যার অবস্থান থেকে।
এরপর শুরু ছাত্রলীগ সহ বদ+ রুল=বদরুল টাইপ স্টেটাস নিয়ে !
এরপর শুরু হলো সেলফি রাজনীতি।
এখন খাদিজার সাথে প্রেম ছিলো কি ছিলো না এটি নিয়ে?
আচ্ছা, আমি যদি প্রশ্ন করি কে কে খাদিজার গ্রামে গিয়েছিলেন ?
উত্তরে ক’জন যে হা বলবেন এটি যেমন আপনি জানেন তেমনি আমিও জানি।
এখন প্রশ্ন হলো এসব কথা কোথায় পেয়েছেন? উত্তরে হয়ত কেউ কেউ বলবেন নেটে পেয়েছি অমুক আইডির কাছ থেকে। সেই আইডিধারীকে যদি জিজ্ঞেস করি, অাপনি এ খবরটি কোথায় পেলেন? উত্তরে সে বলবে অমুকের কাছ থেকে কপি করেছি।অর্থাৎ এভাবে চলতেই থাকবে কিন্তু কেউ গ্রামে গিয়ে সংগ্রহ করেছে সেই ব্যক্তিটির কাছে আমরা আদৌ পৌঁছতে পারব কিনা সন্দেহ !!!
এখন আসি আপনাদের কথায় ধরুন ছয় বছর বা কম বা বেশি প্রেম ছিল। মেনে নিলাম ছিল। এখন প্রশ্ন, ছেড়ে দিল কেন? উত্তরে দু’টো জিনিস আসতে পারে।
১। খাদিজা ভাল মেয়ে না বা সে অন্য কারো সাথে আবার নতুন করে মিশছে।
২। বদরুল ছেলে ভাল না এটি খাদিজা বুঝে গেছে।
যদি প্রথম কারণটি সঠিক হয়, তাহলে অাপনি কি মনে করেণ যে, এই কারণে খাদিজাকে কোপানো উচিত? আমি মনে করি এই কারণে নিশ্চয়ই খাদিজাকে কোপানো উচিত না। কিন্তু বদরুল কোপাল। তার মানে কি দাঁড়াল? এটি ভালোবাসা? নো নো নেভার। এটি শরীরের মোহ। অর্থাৎ ওকে ভালবাসি তাই ওর শরীরটি আমারই চাই--চাই-ই-চাই। অর্থাৎ বিকৃত ভালোবাসা।
যদি দ্বিতীয় কারণটি সঠিক হয় তবে আপনি কি মনে করেন না যে খাদিজা ঠিক করেছে?
আমি মনে করি যে কারণেই খাদিজা বদরুলকে ত্যাগ করেছে বদরুলকে ত্যাগ করে সে সঠিক ডিসশানই নিয়েছিল। কারণ, যে ব্যক্তিটি ত্যাগ করাতে কোপাতে পারে তার সাথে ঘর বাঁধলে কি ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারতো, তা কি একবারও ভেবেছেন? তার মানে দাঁড়াল খাদিজা বুদ্ধিমতি, খাদিজা মানুষ চিনে। বদরুল এর ভয়ংকর রূপ হয়ত আপনি আমি খাদিজাকে কোপানোর পরে দেখেছি কিন্তু খাদিজা দেখেছে অনেক আগে।
আমি আসলে সঠিক কোনটাই জানি না খাদিজার সাথে বদরুলের সম্পর্ক ছিল কি ছিল না। কিন্তু নেটে অনেকের লেখা দেখে আমি হতাশ। কি করে মানুষ শুনা কথার উপর ভিত্তি করে এভাবে লিখতে পারে? কেউ কেউ তো লিখছেন ভালই করেছে---তারা কেন লিখছেন সেটাও বুঝার মতো বয়স আমাদের হয়েছে। এর মানে তাদের জীবনের সখিনা, জড়িনাও তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তাই আপনাকে বলি এত বড় জঘন্য কাজকে যারা বলেন ঠিকই করেছে তাদের আমি বলব, ছেড়ে গেছে যারা তারাও ঠিকই করেছে।
ভাললাগা থেকে ভালবাসা তৈরি হয়। প্রথমে দর্শন থেকেই বেশির ভাগ ভাললাগা তৈরি হয়। তারপর একসাথে চা খাওয়া, কফি খাওয়া, ঘুরা ফিরা ইত্যাদি। এটি মোটেও ভাবা ঠিক না যে একসাথে চা খেয়েছে বলে আর ছেড়ে যাবে না। কারণ, ভাললাগা দর্শন থেকে শুরু হলে ভালোবাসা ধাপে ধাপে বাড়ে। আর সে ধাপ তখন আচার, ব্যবহার, কথাবার্তা, সব কিছু থেকে হয়। তাই দেখা যায়, প্রেমিক বা প্রেমিকার সবচেয়ে অপছন্দটাই যদি হয় আপনার পছন্দ তবে সে থাকবে না, ছেড়ে চলে যাবে। আজকাল অার সেই জমানা নাই .এখন সবাই সুদূঢ়প্রসারী চিন্তা করে।
পরিশেষে বলব, চিলের পিছনে না ছুটে কানে হাত দিয়ে দেখা উচিত কান আছে কিনা। আর কতো হুজুগে নাচব। সমাজে বাস করি আমরা। তাই একের ব্যবহার বা কথা অন্যের উপর প্রভাব ফেলে। তাই এমন কিছু করা বা বলা ঠিক নয় যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর, পরিবারের জন্য লজ্জাকর এবং জাতির জন্য অন্ধকার।
সবার সুস্থতা কামনা করি।
ধন্যবাদ।

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

ইতিবাচক হোন

কেউ চুল বেঁধে টাকা লয় আর কেউ চুল বেঁধে বাইরে বের হয়।
কাজ দু’জনের এক হলেও উদ্দেশ্য এক নয় ।
যেমন ধরুন ---আপনি একজন ব্যবসায়ী । মনে করেন, আপনি অনেক বড় একটি কাজ পেলেন। যেই কাজ সম্পন্ন করতে হলে আপনাকে একটি রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। আপনার গন্তব্যে যেতে হলে একটা রাস্তাই আছে আর কোন বিকল্প নাই। আপনি যে রাস্তায় যাবেন সে রাস্তার কিছুদূর যাবার পরে ধরেন একটি পতিতালয়। আর আপনাকে আপনার গন্তব্যে যেতে হলে ঐ পতিতালয়ের উপর দিয়েই যেতে হবে। এখন ভাবুন যদি কোন পরিচিত লোক আপনাকে দেখেই ফেলে তখন আপনাকে কি ভাববে?
আপনি যদি মহিলা হোন তাহলে পরিচিত বা আত্মীয় (বেশিরভাগ) ভাববে আপনি যৌনকর্মী আর আপনি যদি পুুরুষ হোন তাহলে ভাববে আপনি খদ্দের।

এখন আপনি কি করবেন?
আপনি রাস্তা খারাপ বলে যাবেন না?
নাকি এতদিনের সাধনা পূরণ করার জন্য ঐ পথটিতেই যাবেন যেখানে আপনার সফলতা । হোক না রাস্তা কিছুটা মন্দ ?
আমি মনে করি, একজন ইতিবাচক মনোভাবের মানুষ আপনার পথচলা নিয়ে কখনোই আপনাকে কটুক্তি করবে না। কারন তিনি আপনাকে বিচার করবেন আপনার কর্ম এবং আচরণ এবং আপনার অতীত, বর্তমান ব্যবহার দেখে।আর একজন নেতিবাচক মানুষ নেতিবাচকই ভাববেন।কারন, ভাবনা যার যার। এখানে কারো হাত নেই।
প্রশ্ন হতে পারে আপনি কি করবেন?
আমার মতে আপনি নিজেকে নিশ্চয়ই চিনেন ? যদি সেটাই হয় তবে আপনি তাই করুন যেটি সততার পথ বা সঠিক পথ। রাস্তা দিয়ে কি আসে যায়? আর কে কি বলল তাতে কি? আপনার বাসার চালটা তো আপনাকেই কিনতে হয়? বাসা ভাড়াটাও নিশ্চয়ই আপনিই দেন? তাহলে ইনকামটাও অাপনাকেই করতে হবে। তাই তথাকথিত লোক চক্ষুর ভয়ে নিজের পথে নিজে কেন কাঁটা ফেলবেন?
আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, যীশু, ভগবান ( যে যার ধর্মে) বিশ্বাসী? তাহলে সৃষ্টিকর্তা জানেন সব। তিনি সব দেখছেন। যদি ভয় করেন তবে তাঁকে ।।
মানুষকে ভয় করার কোন দরকার নেই।
ধন্যবাদ।
ভাবনা যার যার।
মতামত আপনার।

সোমবার, ১ আগস্ট, ২০১৬

প্রচারেই প্রসার

একই দিনে কেউ ঘরে আসে কেউ চলে যায়। মা তার সন্তানকে জন্ম দিয়ে পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করে চলে যায়। সেই সন্তান দিনে দিনে বড় হয়। বড় হয়ে যখন সে জানতে পারে এই দিনই তার জন্মদিন যে দিনে তার মা চলে গেছে। এখন সেই সন্তান তার জন্মদিন ধুমধামে, নেচে গেয়ে জন্মদিন পালন করবে নাকি মায়ের আত্মার শান্তির জন্য দোয়া দুরদ পড়বে ওটা সেই সন্তানের মানষিকতা।যদি সে তার জন্মদিন ধুমধামে পালন করে তবে যে কোন সচেতন মানুষই বলবে বাচ্চাটি মানুষ হলো না ! ভালই হলো ওর মা মরে গেছে ! কারন বেঁচে থাকলে সে কত কস্টই না পেত। তাই জন্মদিন সে পালন করতেই পারে। ওটা তার স্বাধীনতা, তার দৃষ্টি ভঙ্গি। তার অবনতি, তার বিকৃত মানষিকতা। মায়ের মৃত্যুদিনে জন্মদিনের উৎসব !!! তেমনি যারা বঙ্গবন্ধুর স্বপরিবারে হত্যার দিন। সেই দিন যদি বেগম খালেদা জিয়ার জন্মদিনও হয় আর সে তা পালন করে ধুমধামে তবে তিনি তা করতেই পারেন। ওটা তার বিবেক, তার মানষিকতা। তাই বলে আমি মনে করি এ নিয়ে সমালোচনা করে ব্যাপারটাকে এত হাইলাইট করার কোন দরকার নেই। এ জন্মদিনটিকে টোটালি ইগনর করা উচিত। এটি নিয়ে কোন কথাই বলা ঠিক নয। কারন, আপনি যে ঘটনাকে বেশি পাত্তা দিবেন সে ঘটনা আপনাকে ততই সুরসুরি দিবে। তাই এটি সম্পূর্নরূপে এভযেড করা উচিত। আর আমি মনে করি এটি আওয়ামীলীগ ভুল করে। আওয়ামীলীগ আর আওয়ামলিীগের প্রতিটি অঙ্গসংগঠনই এটিকে পত্রিকার এবং চ্যানেলের শিরোনাম বানিয়ে দেয়। যা অপাত্রে কন্যা দানের সামিল। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ দল যেন তেন কোন দল নয়। এ দল সৃষ্টিতে বিশ্বাসী। এ দল গড়েছে । এ দল মুক্তিতে বিশ্বাসী। এ দল গোড়ামি নয়। এ দল উদারতা ধারন করে। এ দলের সমর্থক যারা তারাও এই মানের না হলে এ দলের কেউ সমার্থক হয় না। আগষ্ট শোকের মাস। তাই শোক না করে যদি কেউ নাচানাচি করে, করতেই পারে তবে সেই বিকৃত মানুষ নিযে অালোচনা করে নিজের সময নস্ট করার কোন মানে আছে বলে ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না বা সমর্থন করি না।

শুক্রবার, ২২ জুলাই, ২০১৬

কবিতাসমগ্র

রবী ঠাকুরের গীতাঞ্জলী!
যার কথা সবাই জানি!
শামসুর রহমানের স্বাধীনতা তুমি !
শিরায় শিরায় শিহরন জাগি!
বেগম সুফিয়া কামালের
তাহারেই পরে মনে !!
এ যেন হারানো প্রেম কারে বলে!
কাজী নজরুলের সাম্যের গান গাই !
যেখানে পুরুষ রমনী ভেদাভেদ নাই!
জসীম উদ্দিনের কবর
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে চির আমর!
বেগম রোকেয়ার অবরোধবাসিনী
নারী পুরষ সবাই মোরা জানি!
হেলাল হাফিজের সেই দেয়াল!
আড়ালে কিছু কয় সবই মনের খেয়াল!
রফিক আজাদের যদি ভালোবাসা পাই
শুধরে নেবার এসো সব পণ করে লই!
জীবনানন্দ দাসের বনলতা সেন!
অন্ধকারে কেঁদে মরে যে ভালবাসেন!
কালীপ্রসান্ন ঘোষের পারিব না
বলে আর নিজেকে এড়িও না !
সুকান্তের সেই সে বাণী !
সবাশ বাংলাদেশ!
সারা বিশ্ব অবাক তাকিয়ে রয়
জ্বলে পুরে মরে ছারখার
তবু মাথা নোয়াবার নয় !
কবিতা এমনই তবে হয়!
দু’চার লাইন লিখলে হয় লেখনি !
এসেছে নতুন শিশু তাকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান
এ পৃথিবীতে বাস যোগ্য করে যাব তার
নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার !
এ কেবল সুকান্তই কয়!
হায়! কবিতা কারে কয়!!

সোমবার, ১১ জুলাই, ২০১৬

যৌন হয়রানী

যৌন হয়রানী মূলত পুরুষের বিকৃৃত যৌন কামনার বহিঃপ্রকাশ। সাধারনত যে আচরনগুলোকে যৌন হয়রানী বলে গন্য করা যায়ঃ যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য বা রসিকতা, গায়ে হাত দেয়া বা দেয়ার চেষ্টা করা, ই-মেইল, এস এম এস, টেলিফোন বিড়ম্বনা, পর্নোগ্রাফি বা যে কান ধরনের চিত্র, অশ্লীল ছবি, দেয়াল লিখনের মাধ্যমে হয়রানি, অশালীন উক্তিসহ আপত্তিকর কোন ধরনের কিছু করা , কাউকে ইঙ্গিতপূর্ণভাবে সুন্দরী বলা, কোন নারীকে ভয়ভীতি প্রদর্শন, যে কোন চাপ প্রয়োগ কার, মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন করা, যৌন সম্পর্ক দাবী বা অনুরোধ এবং অন্য যে কোন শারীরিক বা ভাষাগত আচরন যার মধ্যে যৌন ইঙ্গিতপ্রচ্ছন্ন। যৌন হয়রানী ঘরে বাইরে, অফিসে, মার্কেটে, রাস্তায়, এমনকি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও হয়ে থাকে............এটি এমন একটি নির্যাতন যা সাধারনত হয়রানীর শিকার কিংবা হয়রানীকারীর শ্রেণী, বয়স, পেশা, সামাজিক মর্যাদা বা বস্থানের উপর নির্ভর করে না। বাংলাদেশে রাস্তাঘাটে মেয়েদের ইত্যক্ত বা হয়রানী করা বা ইভটিজিং হচ্ছে যৌন হয়রানীর সবচেয়ে প্রকাশ্যে , বেপরোয়া এবং মারাত্মক রূপ। শুধু এ পর্যায়ই এখন আর সীমাবদ্ধ নাই....ফ্লেক্সি দোকান থেকে নম্বর বাহিরে প্রকাশ এবং সময়ে অসময়ে সেখান থেকে ফোন আসা এবং বিভিন্ন সময়ে বিরক্তকরাও এখন বর্তমানে একটি মারাত্ম রূপ ধারন করেছে। নিরাপত্তাহীনতার কারনে বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া মেয়েদের অনেকের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যায়, এমনকি অল্প বয়সে এখনো অহরহ বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। অনেকে মানষিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আত্মহনন পর্যন্ত করে থাকে। শুধু আইন থাকলেই হয় না। আইনের ভয়ে ভীত না হয়ে সবার মধ্যে যদি মানবিকতা এবং সচেতনতা কাজ করে এবং নিজের ইজ্জতের মূল্য থাকে তবে এর প্রতিকার করা সম্ভব। তবে এর পাশে এটিও সত্য যে সমাজে এখনো অনেক ভাল মানুষের দেখা মেলে যারা পথেঘাটে নারীদের অনেক সহায়তা করেন একজন ভাইয়ের মতো, বাবার মতো বা বন্ধুর মতো অথচ তার আচরনে কোথাও প্রকাশ পায় না জেন্ডার বৈষম্য।
পরিশেষে, নারী নয় পুরুষ নয়....প্রতিটি মানুষের কাছে আহবান ...অন্যায় কারীর বিরুদ্ধে আসুন সবাই রুখে দাড়াই সে যে পরিবেশেই হোক না কেন বা হোক না আমার পরিচিতজন বা আত্মীয়।

[মনে রাখতে হবে যে ব্যক্তির নিজের ইজ্জতের খেয়াল থাকে, সেই কেবল অন্যের ইজ্জতের পরোয়া করে বা দিতে জানে]

রবিবার, ১০ জুলাই, ২০১৬

পিতা মাতার প্রতি একটু সময় দিয়ে ভাবুন ! (২য় পর্ব)

মা’ মরে গেলে সন্তান হিসেবে আপনার উচিৎ আপনার বাবাকে ২য় বার বিয়ে দেয়া যখন এ কথাটি চলে আসে তখন প্রশ্ন চলে আসে মা’কে নয় কেন? আমাদের দেশের প্রেক্ষাপট এবং ট্রেডিশন অন্য দেশের মতো নয়। একটু আলাদা, একটু মমতাঘেরা। মা’ শব্দটি আমাদের কাছে বড়ই ইজ্জতের এবং সম্মানের। একজন মা’ মারা গেলে একজন বাবার পক্ষে তার চাকুরি বা ব্যবসা সামলিয়ে বাচ্চাদের সামলান বা সংসার সামলান সহজ কাজ নয়। যা সহজে একজন মা’ তার স্বামী মারা যাবার পরও ঘর এবং বাহির খুব সুন্দরভাবেই সামলাতে পারেন। এজন্যই একজন নারী মা-বোন-জায়া। সে যে কোন অবস্থাতেই যে কোন সম্পর্ক অত্যন্ত সুন্দর এবং সাবলীলভাবে সম্পন্ন করতে পারে। যা একজন পুরুষ করতে চাইলে তার জীবন দুর্বিসহ হয়ে পরে।এজন্যই একজন বাবা মারা গেলে একজন মাকে সহজেই বিয়ে দেয়া যায় না বা সমাজ ব্যবস্থার কারনে হয় না। কিন্তু আমি মনে করি সবার আগে আমার মা’।মায়ের শান্তিই একজন সন্তানের শান্তি হওয়া উচিত। সমাজ আমাদের তৈরি। আমার সুযোগ সুবিধার জন্য তৈরি। তাহলে কেন একজন মা’ মাত্র পাঁচ বছর সংসার করার পর তার স্বামী মারা গেলে বিযে দেব না? অবশ্যই দেব কিন্তু সেজন্য চাই আমার সে রকম একজন পুরুষ। যিনি একজন মা সহ তার সন্তানকে অতি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিবে।আমাদের দেশের সমাজ ব্যবস্থাতে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বিয়ে পর কনে চলে যায় বরের বাড়ি। তাই একজন মা’কেও ২য় বিয়ে দিতে হলে স্বামীর বাড়ি চলে যেতে হবে। সেকারনে একজন মায়ের কাছে তার সন্তানের উপর কিছুই নেই।একজন মা’ কিছুতেই তার সন্তান ফেলে নিজের সুখের চিন্তা করবে না।তাই মা’কে ২য় বিয়ে দিতে চাইলেও একজন উদার মনে পুরুষ ছাড়া অনেক সময় এ বিযে দেয়া সম্ভব হয় না। নেতিবাচক মনোভাবের কারনে খুব কম পুরুষই আছেন যে বউয়ের ১ম সংসারের বাচ্চাসহ বউকে ঘরে তুলেন। একেবারে যে দু’একজন নেই তা কিন্তু আমি অস্বীকার করছি না। আর যতদিনে এরকম পুরুষের সংখ্যা সমাজে না বাড়বে ততদিন পর্যন্ত একজন বিধবা মা’কে বিয়ে দেয়া সহজ হবে না। শুধু বিয়ে নয়, দেখতে হবে একজন পুরুষ বিয়ে করার সাথে সাথে সন্তাটিকেও জেনে শুনে বুঝে সুন্দরভাবে নিজের সন্তানের মতো মেনে নেয় নিজ সন্তানের মতো। তাহলে একটি পিতৃহারা সন্তান পেল বাবা আর একজন চাপাকস্টে জীবন্ত লাশ হয়ে বেঁচে থাকা মা’ পেল একজন সুখ-দুঃখের সাথী। আবার, এমনও হতে পারে চাইলে ২য় স্বামীটি বউয়ের ১ম স্বামীর বাড়িতেও থাকতে পারে যদি তার আত্ম-সম্মানে না লাগে। আর আমি মনে করি, এখানে আত্ম-সম্মানহানীর কিছু্‌ নেই। কারন, যেটা সবাই করে ওটা সাধারন। আর যে কাজ দু’একজন করে ওটা উদাহরণ…ওটাই সমাজে অসাধারন কাজ। হয়ত সমাজে অভাব নেই একজন বিধবা মা’কে বিয়ে করার মতো পুরুষ কিন্তু অনেকেরই শর্ত থাকে সন্তান যেতে পারবে না বা দেখা করতে পারবে না বা বডিং স্কুলে থাকবে…ইত্যাদি। এসব ক্ষেত্রে এসব বাচ্চাদের ভাগ্যে জুটে নানী-দাদী-চাচী-মামীদের বা বডিং স্কুলে থাকার এক যন্ত্রনা। এসব চিন্তা করে একজন বিধবা মা’কে বিয়ে দেয়া বা বিয়ে করতে চাইলেও বিযে করা সম্ভবপর হয় না। এখানেও একজন নারীর কিছুটা অপারগতা থেকেই যায়। নারী হয়ে জন্মালেই যেন কিছুটা পিছুটান, কিছুটা দুর্বলতা, কিছুটা অসহায়ত্ব তেকেই যায়! তাহলে কিসের শিক্ষা আর কিসের দীক্ষা? আর কিসের পরিবর্তন? ছিলাম যেখানে এখনো আছি ঠিক আগের মতোই সেখানে। আমি একজন নারী আমি চাইলেই সব হবে না যদি না একজন পুরষ আমাকে যথার্থ সহযোগীতা না করে !
পরিশেষে, আমি সমানাধিকারে বিশ্বাসী নই। আমি চাইনা কোন নারী তার চাপাকস্টে জীবন পার করুক। সেজন্য চাই পুরুষের সহযোগীতা, সহমর্মীতা এবং আমাদের জন্য উদারতা। এতটুকু চাওয়া কি আমি চাইতে পারি না আপনাদের কাছে আপনাদেরই মা বা বোন বা জায়া হিসেবে?

[শেষ পর্ব আসবে খুব শীঘ্রই]

শনিবার, ৯ জুলাই, ২০১৬

পিতা মাতার প্রতি একটু সময় দিয়ে ভাবুন ! (১ম পর্ব)

মা’ মরে গেলে সন্তান হিসেবে আপনার উচিৎ আপনার বাবাকে ২য় বার বিয়ে দেয়া!
হয়ত ভাবছেন, সন্তান নিয়ে বাবা দিব্বি জীবন পার করতে পারবে আবার এই বয়সে বিয়ে করে আমাদের ইজ্জত নস্ট করার কি দরকার ! এত ইজ্জত যায় না ! সমাজ আমাদের তৈরি.....একটু ভেবে দেখুন আপনি যখন বড় হয়ে নিজ সঙ্গিটির সাথে জীবন যাপন করবেন তখন ঐ নিঃসঙ্গ বাবাকে সঙ্গ দেবে কে ? বাবাকে বিয়ে করালে আপনার বাবা আপনারই থাকবে...এবং সৎ মা নয়...তাকে আপন মায়ের মতো ভালবাসলে সে ও আপনাকে সন্তানের মতো ভালবাসবে....
যদি আপনার বাবা আপনার ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে ২য় বিবাহ না করার সিদ্ধান্ত নিতে পারে তবে আপনি কেনসন্তান হিসেবে তাকে বিয়ে করাতে পারবেন না এই তথাকথিত সম্মানহানীর ভয়ে? আপনার বাবার চেয়ে কি সম্মান বড়? এমনও হতে পারে আপনার প্রিয় বাবাকে আর কোনদিনও বুড়ো বয়সে বৃদ্ধাশ্রমে যেতে হবে না.....
মন্দ হোক আর ভাল হোক বাবা আমার বাবা
পৃথিবীতে বাবার মতো আর আছে কে বা?
সেই সে বাবাকে কেন সুখ দেব না, কেন শান্তি দেব না....আমি সমাজের চিন্তায় চিন্তিত নই কারন আমি সন্তান আগে.....আমার বাবার সন্তান......

জীবনের অনেক সময় নস্ট করেছি আর কেন?

আমরা মানুষ। মানুষ পরিবর্তনশীল। মানুষ সৃষ্টির সেরা। তাই আমাদের আছে কিছু বিশেষ গুন। প্রতিটি প্রানী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে। ঐ নিয়মে আমিও মরব আজ অথবা কাল অথবা অনেকটি বছর পর। অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনার জন্য এখন কোথাও নিরাপদ মনে হয় না। সবাই কেমন জানি আতংকিত ! আমি কিন্তু রিলাক্স মুডে আছি। কারন, শপিং মল নাকি নিরাপদ নয়......রেস্তোরা নয়......বাজার নয়.......ঈদগাহ মাঠ নয়.............তাহলে নিরাপদ কোথায়? এসব প্রশ্ন করে হতাশা আর আতংক হবার কিছু নেই। যতদিন বাঁচব, যতটুকু সময় বাঁচব সেটাকে উপভোগ করেই বাঁচব। কারন, জীবনের ভরসা এমনিতেই নাই। যখন রোগ নিয়ে হাসপাতালে যাব তখনও হাসিখুশি থাকব আর যখন দাওয়াত খেতে যাব তখনও....কারন আমি আমার জীবনের একটি সেকেন্ডও আতংকে কাটাব না। জীবনকে উপভোগ করব জীবনের নিয়মে............যখন যা সামনে আসবে তা মোকাবেলা করে বাঁচতে পারলে বাঁচব কিন্তু আতংকে থাকব না। সবাই ভাল থাকুন, আনন্দে থাকুন...........আতংক দূর করুন।

জীবনের অনেক সময় নস্ট করেছি আর কেন?

আমরা মানুষ। মানুষ পরিবর্তনশীল। মানুষ সৃষ্টির সেরা। তাই আমাদের আছে কিছু বিশেষ গুন। প্রতিটি প্রানী মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করবে। ঐ নিয়মে আমিও মরব আজ অথবা কাল অথবা অনেকটি বছর পর। অনাকাঙ্খিত কিছু ঘটনার জন্য এখন কোথাও নিরাপদ মনে হয় না। সবাই কেমন জানি আতংকিত ! আমি কিন্তু রিলাক্স মুডে আছি। কারন, শপিং মল নাকি নিরাপদ নয়......রেস্তোরা নয়......বাজার নয়.......ঈদগাহ মাঠ নয়.............তাহলে নিরাপদ কোথায়? এসব প্রশ্ন করে হতাশা আর আতংক হবার কিছু নেই। যতদিন বাঁচব, যতটুকু সময় বাঁচব সেটাকে উপভোগ করেই বাঁচব। কারন, জীবনের ভরসা এমনিতেই নাই। যখন রোগ নিয়ে হাসপাতালে যাব তখনও হাসিখুশি থাকব আর যখন দাওয়াত খেতে যাব তখনও....কারন আমি আমার জীবনের একটি সেকেন্ডও আতংকে কাটাব না। জীবনকে উপভোগ করব জীবনের নিয়মে............যখন যা সামনে আসবে তা মোকাবেলা করে বাঁচতে পারলে বাঁচব কিন্তু আতংকে থাকব না। সবাই ভাল থাকুন, আনন্দে থাকুন...........আতংক দূর করুন।

শনিবার, ২ জুলাই, ২০১৬

স্প্যানিশ রেস্তোরা (গুলশান-৭৯)

অবশেষে আই এস বাংলাদেশেও প্রবেশ করেছে। আমি বাংলাদেশী ফেসবুক আইডিধারী সবাইকে মন থেকে একটি অনুরোধ করব প্লিজ আপনারা এ অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি নিয়ে মজা, ব্যাঙ্গার্থক কথা, দলীয় প্রচারনা বন্ধ করুন । প্লিজ। এটি কতগুলো মানুষের জীবনহানীর ঘটনা। এটি আমাদের দেশের চিত্র। দলের আগে দেশ। কাউকে ছোট পরে করলেও চলবে। অথচ এটিকে নিয়ে এসব চিন্তা চেতনা প্রকাশ করে নিজেকে অন্তত ছোট করিয়েন না....প্লিজ ।দল বুঝি না, বুঝিনা মত, বুঝিনা কোন বিরোধীতা। শুধু বুঝি এটি আমার দেশের একটি দুর্যোগ সময়! আর এ সময় সমালোচনা নয়, দরকার ভালোবাসা, দরকার একতা। তাই দল-মত-বিরোধীতা-জাত-মান-কুল সব ভুলে গিয়ে সবাই দেশের কথা বলাই উত্তম। শুধু বললেও হবে না। ০১-০৯ তারিখ পর্যন্ত সরকারী ছুটি বিধায় এবার ঢাকা একটু বেশিই ফাঁকা। তাই এটিকে উড়িয়ে দিলে হবে না। সবাই সজাগ থাকুন, থাকুন সতর্কতার সহিত।

শুক্রবার, ১ জুলাই, ২০১৬

গুলশান-৭৯

অনেক রক্ত আমরা পূর্বেই দেখে এসছি। ”বাংলাদেশ”নাম লিখিয়েছি বিশ্বের সব দেশের নামের তালিকায়। আমরা যে বীরের জাতি তা এ পৃথিবী জানে। তাই এ রকম কোন পরিস্থিতিই আমাদের মানষিকভাবে দুর্বল করতে পারবে না। আমরা বাংলাদেশী মানুষেরা আবেগী। তাই আমরা মন থেকে গভীরভাবে মর্মাহত । খুব কম মানুষই আছেন কাল আমরা ঘুমাতে পেরেছি। তারপরও কিছু বাংলাদেশী মানুষ তাদের কথায়, আচরনে এমন এমন কথা প্রকাশ করছেন যা সত্যি ‍দুঃখজনক। তাদের উদ্দেশ্যে আমি বলব, দেশকে ভালবাসুন। দেশ সবার আগে। আর এতে দেশ যাবে না। দেশের পরিস্থিতিতে যারা দেশের কথা ভাবে না। তারা আবার বলে এই দেশ গেল! ভালবাসা দিযে সব ধরে রাখা যায়। আর ১৭ কোটি মানুষ পারব না? তাহলে ৭ কোটি কীভাবে দেশ স্বাধীন করতে পেরেছে? আজ আমরা বড় বড় কথা বলছি ঐ সাত কোটি মানুষের জন্য.......তাই আবারো বলব.....দেশকে ভালবাসুন।

বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬

ধনী পরিবারে নারীর অবস্থান



বড় বড় বাড়ি বা বড় বড় এপার্টমেন্টে থাকে নারী। বেশির ভাগই স্বামীর টাকা আছে বলে নারী গৃহিনী। তখন একজন নারীর কাজ দামী গাড়িতে করে বড় বড় এসি মার্কেটে যাওয়া আর ইচ্ছে মতো কেনাকাটা করা। কেউ কেউ আবার ক্লাব বা জিমেও যান। আর পার্লার তো আছেই। সে নারীটিও কিন্তু সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বটে। এরকম কোন নারীর সাথে যদি আপনার পরিচয় হয় তবে জিজ্ঞেস করবেন কী করেন? উত্তরে দামী ব্যাগ থেকে, একটি কার্ড বের করে দিবে…কিসের কার্ড জানেন তো ? সেটি কোন ক্লাবের মেম্বার !! এটি কি একজন মানুষের পরিচয়? তারপরও দেখবেন নারী এতেই খুশি! আর মানুষও দেখবেন এদের কদর করে বেশি। আজকাল আমরা মানুষকে বিচার করি তার কর্ম দিয়ে নয়, তার অর্থ-সম্পদ দেখে। অর্থ সম্পদ আর একজন ভাল মানুষ কি এক হলো? এসব নারীদের চেয়ে আমি ফুটপাতে চায়ের দোকানে বসা নারীটিকে মূল্যায়ন করি বেশি। কারন, ঐ নারীটির আছে বিবেক, আছে মূল্যেবোধ, আছে সংসারের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব। হয়তবা তার সার্টিফিকেট নেই। আমি এসব নারীদের বিপক্ষে নই। আবার পক্ষেও নই। কারন, একটি দেশের অর্ধেক নারী। সেই অর্ধেক শক্তি যদি ঘরে বসে আর ক্লাব-জিম করে কাটিয়ে দেয় তবে দেশের কি অবস্থা হয় বলুন তো? আর এই অর্ধেক শক্তির এখন কিছুটা অংশ হয়ত বাইরে বেরিয়েছে কিন্তু এদের সংখ্যা এখনো সীমিত। আর এই সব ধনী পরিবারের নারীরা দেশের অর্থ বিদেশে পাঠাতে স্বাচ্চন্দ্যবোধ করেন। কিভাবে? তারা বিয়ের মার্কেট বলেন বা ঈদ হুটহাট চলে যান বিদেশ। ভরপুর মার্কেট করে ফিরে আসেন দেশের মাটিতে। দেশের জন্য নিয়ে আসেন ময়লা-আবর্জনা। কারন, খাওয়াটা শুধু রেখে দেন এদেশের জন্য….কারন ভোজন বিলাসে বাংলারীর উপর আর কে আছে? এসব ধনী নারীদের বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান নেই।দেশের জন্যে এদের মাথা ব্যথা নাই। তবে দু’একজন যে এর ব্যতিক্রম নাই তা কিন্তু ঠিক নয়। আমি একজন রূমানা চেীধূরী’র কথা বলব….তিনি শিল্পপতির স্ত্রী। কিন্তু তিনি কনাডায় থাকেন । তিনি একজন লেখক, তিনি একজন দোভাষী, তিনি জিওগ্রাফীর উপস্থাপক। অথচ কানাডার টরেন্টোতে তার নিজের বাড়ি। বাংলাদেশের কথা না হয় নাই বললাম। আমি একজন রূমানা চৌধূরীকে নিযৈ খুশি নই…আমি প্রতিটি ধনী পরিবারে একটি করে রূমানা চৌধূরী দেখতে চাই।  


গিরগিটি



কিছু না বলা কথা
কতটা আপন ভেবে না হয়
বলেছি তোমায়!
না জেনে তুমি করলে অপমান আমায়!
আমি অতি সাধারন, নগন্য হওয়ায়!
এতটাই অপমান করলে আমায়!
কি জান তুমি?
কতটাই বা চিনেছ আমায়?
যতটুকু বলেছি, ততটুকু শুনেছ
হেয় করতে এক বিন্দুও ছাড়লেনা আমায়!
কখনো কি প্রশ্ন করেছি তোমায়?
কেন এত অপমান করছ আমায়?
আমি কি এতটাই হেলাফেলা?
অপরাধ কোথায়?
ভালোবাসি বলেছি তোমায়?
কি এমন অধিকার আছে?
কথায় কথায় ন্যাক্কারজনক
উপস্থাপন করছ আমায়!
কি ভেবে রেখেছ নিজেকে?
মহা মানব তুমি?
তুমি খুবই সম্মানিত!
কি বলব আমি?
সম্মান দিতে যে জানে না
তার আবার কিসের সম্মান!
কিসের এত অহংকার!
তুমি কি জান না অহংকার
পতনের কারন যে হয়!
অভিশাপ নয়!
এ আমার অর্ন্তদৃষ্টি কয়!
তোমার পতন আমার কাম্য নয়!
কি আছে তোমার?
বাড়ি-গাড়ি-অট্টালিকা?
ওসব টানে না আমায়
সাধারনের মাঝে যদি
অসাধারন হতে পারা যায়!
তবেই জীবন সার্থকময় ।
আমার ভালোবাসা আজ
তোমার অসহ্য মনে হয়!
তবে কেন? বল কেন?
ভালবাসার বীজ বুনতে কত
সহযোগীতা করেছ আমায়!
কত মিষ্টি কথা!
কতইনা গভীর প্রেমালাপ!
ভদ্রবেশি মানুষের মুখোশের আড়ালে
এ কোন দানবের পরিচয় মেলে!
আজ সবই অসহ্য মনে হয়?
মানুষ কেন এত রং বদলায় !!!



নারীর অবস্থান লোকাল বাসে




নারী এখন ঘরের চেয়ে বাইরে থাকে বেশি যারা কর্মজীবী বা ব্যবসায়ী । এদের বেশিরভাগ নারীর বেতন কিন্তু সীমিত। যেহেতু বেতনাদি সীমিত তাই তাকে হিসেব করেই চলতে হয়। সবসময় তাকে লোকাল বাসেই বেশি ভ্রমন করতে হয়। কিন্তু সে ভ্রমনে যে তার কত রকম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় তা একজন নিম্ন আয়ের কর্মজীবি নারীই জানে! লোকাল বাসগুলোর সীট যখন ফিলাপ হয় তখন আর নারীকে উঠতে দেয় না।কারন নারী উঠলে জায়গা আটকে যায় বেশি। তাছাড়া ব্রেক ধরে নামাতে হয় বলে সময় লাগে বেশি। এটি ব্যবসায়িক চিন্তা। কিন্তু কেউ তখন চিন্তা করে না যে একজন নারী বাসায় তাড়াতাড়ি পৌঁছা দরকার কারন তার নিরাপদের ব্যাপার থাকে। লোকাল বাসে মাঝেমাঝে নারী দাড়িয়ে গেলে কিছু পুরুষকে বলতে শোনা যায় কেন উঠছেন। সীট নাই দেখেন নাই? তাদের ভাব এমন যে, নারীর বাসায় যাওয়া কী দরকার? থাকনা সাররাত রাস্তায়? অথচ এই পুরুষটি যখন নিজের বউ বা বোন বা মাকে নিয়ে বাসে উঠে
তখন ড্রাইভারকে অনেক বকাবাজি করে তাকে সুন্দরভাবে নামিয়ে না দিলে ! আশ্চর্য মানব! নিজের বেলায় ষোল আনা বোঝে, অন্যের বেলায় নয়! একদিনের একটি ঘটনা বলি, ফার্মগেট থেকে একটি লোকাল বাসে আমি যাচ্ছিলাম মতিঝিল। আমি ড্রাইভারের পিছনের প্রথম সিট দু’টির প্রথমটিতে বসা ছিলাম। পাশে ছিল এক ভদ্রলোক। কাওরান বাজার আসতে না আসতেই পুরো বাস ভরে গেল। কিছু মেয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। একটি মেয়ে আমার পাশে গা ঘেষে সুন্দর মতো দাঁড়িয়েছিল। মেয়েটির পাশে একজন ভদ্রলোক ছিল মধ্যবয়ষী! ব্রেক হলেই ভদ্রলোক মেয়েটির গায়ে পরে আর মেয়েটি আমার উপর আর আমি ঐ পাশে বসা ভদ্রলোকের উপর! কয়েকবার দেখার পর আমি উঠে দাড়ালাম শাহবাগ গিযে। মেয়েটি বসার জন্য উদগ্রীব হলো। আমি বললাম, আমি নামব না, তুমি বস না। মেযেটি চুপ করে দাড়িয়ে রইল। মেয়েটির পাশের লোকটিকে বললাম, ভাইয়া আপনি মনে হয় অসুস্থ বসুন আমি দাড়িয়ে যেতে পারি। আমার দাড়িয়ে যাবার অভ্যেস আছে। লোকটি বলল, আমি অসুস্থ নই, আপনি বসুন। আমি বললাম, আমি জানি আপনি অসুস্থ প্লিজ বসুন। লোকটি এবার ক্ষেপে গিয়ে আশেপাশে দু’একজনকে বলল, দেখেন তো আজব মহিলা! আমি বলি সুস্থ আর সে বলে আমি নাকি অসুস্থ ! লোকজন তো সব আমার দিকে বিরক্তের চোখে তাকাল! আমি বললাম, ভাইয়া আপনি তো শারীরিক অসুস্থ নন, আপনি মানষিকভাবে অসুস্থ। তাই ব্রেক ধরলেই আপনি বামে নয়, সামনে নয়, পিছনে নয়, শুধু ডানে পরে যান। কারনটা কি? তখন সবাই চুপ! আর কেউ কেউ ঐ লোককে দু’একটা নীতিবাক্য শুনিয়ে দিলেন বটে। লোকটি ইজ্জত বাঁচানোর জন্য মৎস্য ভবনের ওখানে নেমে গেল। টিকেট কেটেছিল সচিবালয় পর্যন্ত।
সর্বশেষে, আমি বলতে চাই নারী তোমারও দোষ আছে। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে উভয়ই সম-অপরাধী! অন্যায় হলে প্রতিবাদ করো।প্রতিবাদে ইজ্জত যায় না বরং চুপ করে ব্যাড টাচ তুমি সয়ে যাচ্ছ আর আরেকজনকে বারবার অন্যায় করতে উৎসাহিত করছ। তাই তুমিও অপরাধী। তুমিও পরিবর্তন হও, তোমার আছে মানষিক সমস্যা। পরিশেষে, একটি কথাই বলতে চাই আমাদের সাধারন মানুষের মাঝে এখনো আছে বিবেক বোধ। আমি দেখেছি পথে ঘাটে এভাবে প্রতিবাদ করলে আমার পাশে অনেক পুরুষকে পাই। তার মানে সব পুরুষ এক নয়। এদের সংখ্যা সীমিত। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ালে তুমি-আমি-আমরা সবাই একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারব এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

নারীর জন্য আবাসিক হোটেল






নারী এখন ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে, বিমানে, সংসদে। প্রশ্ন জাগে নারী নেই কোথায়! কাজী নজরুলের ভাষায়, এ পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যানকর, অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। পুরুষ যেখানে, নারী সেখানে। সংখ্যায় হয়তবা নারী কম তাই বলে এমন নয় যে নারী কোথাও নেই। নারী আছে, নারী ছিল এবং ভবিষ্যতেও নারীর সংখ্যা বাড়বে ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে, বিমানে, সংসদে । এটি প্রত্যাশা নয়, এটি বিশ্বাস। এটি ইতিহাস, এটি নারীর যোগ্যতা, এটি নারীর প্রতিজ্ঞা। নারী এখন কোন কিছুর ভয়ে ভীত নয়, নারী মাথা উচু করে চলতে শিখেছে, নারী প্রতিবাদ করতে শিখেছে। তাই নারীর সামনে অগ্রসর হবার দিন এসেছে, পিছন ফিরে তাকাবার দিন শেষ হয়েছে। নারী অতীতের সব লাঞ্চনা, বঞ্চনা, অপমান ভুলে যায়নি তারা তা মনে গেঁথে রেখে সব কিছুকে অগ্রাহ্য করে নিজের মতো জতৎ তৈরি করছে । তারপরও পদে পদে নারী বাঁধাগ্রস্থ। যেখানে যায় সেখানেই কিছু না কিছু সমস্যা থেকেই যায়। আমাদের দেশে মাইলফলকের মতো ইতিহাস আছে। সরকার দলীয়, বিরোধীদলীয়, গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রীত্ব, স্পীকার ইত্যাদি পদে নারী ! এও কি ভাবা যায়! ক’টি দেশ এমন করতে পেরেছে? হয়ত একটিও না। এ আমার গর্বের বিষয়! এমন দেশটিতে আমি একজন নারী হয়ে জন্মেছি! তারপরও আমি কি সবখানে নিরাপদ? কেন নিরাপদ নয়? কিছু সু-ব্যবস্থার অভাবে। কিছু সত্যিকার পরিকল্পনার অভাব। যা আমাদের পদে পদে বাঁধা। নারী যেহেতু  এখন ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে, বিমানে, সংসদে। তাহলে নারী তো তার প্রয়োজনে এক জেলা থেকে আরেক জেলা, এক থানা থেকে আরেক থানা, এক সিটি থেকে আরেক সিটিতে যাবেই তার কাজের জন্য! তখন কেন তার জন্য দেয়া হয় না হোটেল ভাড়া?জানি এমন না হয় কম্বাইন হোটেল থেকে সকালে বেরুলে সামনের চায়ের দোকানের বসে থাকা লোক গুলি বাঁকা চোখে মুচকি হেসে দেখে। কেন নারী কি একা হোটেলে একটি রাত থেকে পরের দিনের তার কাজ শেষ করতে পারবে না? তাহলে কেন তার সহ্য করতে হবে মুচকি হাসি? যে হাসি কথা বলে অপমানের, লাঞ্চনার। তাহলে নারীর জন্য কেন সামান্য আবাসিক হোটেলের সুব্যবস্থা নেই? তবে এত বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে নারী সমাজের কি লাভ হলো?কম্বাইন আবাসিক হোটেলেগুলোতে যদি নারীকে এলাউ না করা হয় তবে আমার দাবী প্রতিটি থানায়, প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি বিভাগে নারীদের জন্য সরকার কর্তৃক আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থা করা হোক।