নারী এখন ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে, বিমানে, সংসদে।
প্রশ্ন জাগে নারী নেই কোথায়! কাজী নজরুলের ভাষায়, এ পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি
চির কল্যানকর, অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। পুরুষ যেখানে, নারী
সেখানে। সংখ্যায় হয়তবা নারী কম তাই বলে এমন নয় যে নারী কোথাও নেই। নারী আছে, নারী
ছিল এবং ভবিষ্যতেও নারীর সংখ্যা বাড়বে ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে,
বিমানে, সংসদে । এটি প্রত্যাশা নয়, এটি বিশ্বাস। এটি ইতিহাস, এটি নারীর যোগ্যতা,
এটি নারীর প্রতিজ্ঞা। নারী এখন কোন কিছুর ভয়ে ভীত নয়, নারী মাথা উচু করে চলতে
শিখেছে, নারী প্রতিবাদ করতে শিখেছে। তাই নারীর সামনে অগ্রসর হবার দিন এসেছে, পিছন
ফিরে তাকাবার দিন শেষ হয়েছে। নারী অতীতের সব লাঞ্চনা, বঞ্চনা, অপমান ভুলে যায়নি
তারা তা মনে গেঁথে রেখে সব কিছুকে অগ্রাহ্য করে নিজের মতো জতৎ তৈরি করছে । তারপরও পদে
পদে নারী বাঁধাগ্রস্থ। যেখানে যায় সেখানেই কিছু না কিছু সমস্যা থেকেই যায়। আমাদের
দেশে মাইলফলকের মতো ইতিহাস আছে। সরকার দলীয়, বিরোধীদলীয়, গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রীত্ব,
স্পীকার ইত্যাদি পদে নারী ! এও কি ভাবা যায়! ক’টি দেশ এমন করতে পেরেছে? হয়ত একটিও
না। এ আমার গর্বের বিষয়! এমন দেশটিতে আমি একজন নারী হয়ে জন্মেছি! তারপরও আমি কি
সবখানে নিরাপদ? কেন নিরাপদ নয়? কিছু সু-ব্যবস্থার অভাবে। কিছু সত্যিকার পরিকল্পনার
অভাব। যা আমাদের পদে পদে বাঁধা। নারী যেহেতু
এখন ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে, বিমানে, সংসদে। তাহলে নারী তো
তার প্রয়োজনে এক জেলা থেকে আরেক জেলা, এক থানা থেকে আরেক থানা, এক সিটি থেকে আরেক
সিটিতে যাবেই তার কাজের জন্য! তখন কেন তার জন্য দেয়া হয় না হোটেল ভাড়া?জানি এমন না
হয় কম্বাইন হোটেল থেকে সকালে বেরুলে সামনের চায়ের দোকানের বসে থাকা লোক গুলি বাঁকা
চোখে মুচকি হেসে দেখে। কেন নারী কি একা হোটেলে একটি রাত থেকে পরের দিনের তার কাজ
শেষ করতে পারবে না? তাহলে কেন তার সহ্য করতে হবে মুচকি হাসি? যে হাসি কথা বলে
অপমানের, লাঞ্চনার। তাহলে নারীর জন্য কেন সামান্য আবাসিক হোটেলের সুব্যবস্থা নেই?
তবে এত বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে নারী সমাজের কি লাভ হলো?কম্বাইন আবাসিক হোটেলেগুলোতে
যদি নারীকে এলাউ না করা হয় তবে আমার দাবী প্রতিটি থানায়, প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি
বিভাগে নারীদের জন্য সরকার কর্তৃক আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থা করা হোক।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন