বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬

নারীর অবস্থান লোকাল বাসে




নারী এখন ঘরের চেয়ে বাইরে থাকে বেশি যারা কর্মজীবী বা ব্যবসায়ী । এদের বেশিরভাগ নারীর বেতন কিন্তু সীমিত। যেহেতু বেতনাদি সীমিত তাই তাকে হিসেব করেই চলতে হয়। সবসময় তাকে লোকাল বাসেই বেশি ভ্রমন করতে হয়। কিন্তু সে ভ্রমনে যে তার কত রকম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় তা একজন নিম্ন আয়ের কর্মজীবি নারীই জানে! লোকাল বাসগুলোর সীট যখন ফিলাপ হয় তখন আর নারীকে উঠতে দেয় না।কারন নারী উঠলে জায়গা আটকে যায় বেশি। তাছাড়া ব্রেক ধরে নামাতে হয় বলে সময় লাগে বেশি। এটি ব্যবসায়িক চিন্তা। কিন্তু কেউ তখন চিন্তা করে না যে একজন নারী বাসায় তাড়াতাড়ি পৌঁছা দরকার কারন তার নিরাপদের ব্যাপার থাকে। লোকাল বাসে মাঝেমাঝে নারী দাড়িয়ে গেলে কিছু পুরুষকে বলতে শোনা যায় কেন উঠছেন। সীট নাই দেখেন নাই? তাদের ভাব এমন যে, নারীর বাসায় যাওয়া কী দরকার? থাকনা সাররাত রাস্তায়? অথচ এই পুরুষটি যখন নিজের বউ বা বোন বা মাকে নিয়ে বাসে উঠে
তখন ড্রাইভারকে অনেক বকাবাজি করে তাকে সুন্দরভাবে নামিয়ে না দিলে ! আশ্চর্য মানব! নিজের বেলায় ষোল আনা বোঝে, অন্যের বেলায় নয়! একদিনের একটি ঘটনা বলি, ফার্মগেট থেকে একটি লোকাল বাসে আমি যাচ্ছিলাম মতিঝিল। আমি ড্রাইভারের পিছনের প্রথম সিট দু’টির প্রথমটিতে বসা ছিলাম। পাশে ছিল এক ভদ্রলোক। কাওরান বাজার আসতে না আসতেই পুরো বাস ভরে গেল। কিছু মেয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। একটি মেয়ে আমার পাশে গা ঘেষে সুন্দর মতো দাঁড়িয়েছিল। মেয়েটির পাশে একজন ভদ্রলোক ছিল মধ্যবয়ষী! ব্রেক হলেই ভদ্রলোক মেয়েটির গায়ে পরে আর মেয়েটি আমার উপর আর আমি ঐ পাশে বসা ভদ্রলোকের উপর! কয়েকবার দেখার পর আমি উঠে দাড়ালাম শাহবাগ গিযে। মেয়েটি বসার জন্য উদগ্রীব হলো। আমি বললাম, আমি নামব না, তুমি বস না। মেযেটি চুপ করে দাড়িয়ে রইল। মেয়েটির পাশের লোকটিকে বললাম, ভাইয়া আপনি মনে হয় অসুস্থ বসুন আমি দাড়িয়ে যেতে পারি। আমার দাড়িয়ে যাবার অভ্যেস আছে। লোকটি বলল, আমি অসুস্থ নই, আপনি বসুন। আমি বললাম, আমি জানি আপনি অসুস্থ প্লিজ বসুন। লোকটি এবার ক্ষেপে গিয়ে আশেপাশে দু’একজনকে বলল, দেখেন তো আজব মহিলা! আমি বলি সুস্থ আর সে বলে আমি নাকি অসুস্থ ! লোকজন তো সব আমার দিকে বিরক্তের চোখে তাকাল! আমি বললাম, ভাইয়া আপনি তো শারীরিক অসুস্থ নন, আপনি মানষিকভাবে অসুস্থ। তাই ব্রেক ধরলেই আপনি বামে নয়, সামনে নয়, পিছনে নয়, শুধু ডানে পরে যান। কারনটা কি? তখন সবাই চুপ! আর কেউ কেউ ঐ লোককে দু’একটা নীতিবাক্য শুনিয়ে দিলেন বটে। লোকটি ইজ্জত বাঁচানোর জন্য মৎস্য ভবনের ওখানে নেমে গেল। টিকেট কেটেছিল সচিবালয় পর্যন্ত।
সর্বশেষে, আমি বলতে চাই নারী তোমারও দোষ আছে। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে উভয়ই সম-অপরাধী! অন্যায় হলে প্রতিবাদ করো।প্রতিবাদে ইজ্জত যায় না বরং চুপ করে ব্যাড টাচ তুমি সয়ে যাচ্ছ আর আরেকজনকে বারবার অন্যায় করতে উৎসাহিত করছ। তাই তুমিও অপরাধী। তুমিও পরিবর্তন হও, তোমার আছে মানষিক সমস্যা। পরিশেষে, একটি কথাই বলতে চাই আমাদের সাধারন মানুষের মাঝে এখনো আছে বিবেক বোধ। আমি দেখেছি পথে ঘাটে এভাবে প্রতিবাদ করলে আমার পাশে অনেক পুরুষকে পাই। তার মানে সব পুরুষ এক নয়। এদের সংখ্যা সীমিত। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ালে তুমি-আমি-আমরা সবাই একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারব এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন