বৃহস্পতিবার, ৩০ জুন, ২০১৬

ধনী পরিবারে নারীর অবস্থান



বড় বড় বাড়ি বা বড় বড় এপার্টমেন্টে থাকে নারী। বেশির ভাগই স্বামীর টাকা আছে বলে নারী গৃহিনী। তখন একজন নারীর কাজ দামী গাড়িতে করে বড় বড় এসি মার্কেটে যাওয়া আর ইচ্ছে মতো কেনাকাটা করা। কেউ কেউ আবার ক্লাব বা জিমেও যান। আর পার্লার তো আছেই। সে নারীটিও কিন্তু সার্টিফিকেটধারী শিক্ষিত বটে। এরকম কোন নারীর সাথে যদি আপনার পরিচয় হয় তবে জিজ্ঞেস করবেন কী করেন? উত্তরে দামী ব্যাগ থেকে, একটি কার্ড বের করে দিবে…কিসের কার্ড জানেন তো ? সেটি কোন ক্লাবের মেম্বার !! এটি কি একজন মানুষের পরিচয়? তারপরও দেখবেন নারী এতেই খুশি! আর মানুষও দেখবেন এদের কদর করে বেশি। আজকাল আমরা মানুষকে বিচার করি তার কর্ম দিয়ে নয়, তার অর্থ-সম্পদ দেখে। অর্থ সম্পদ আর একজন ভাল মানুষ কি এক হলো? এসব নারীদের চেয়ে আমি ফুটপাতে চায়ের দোকানে বসা নারীটিকে মূল্যায়ন করি বেশি। কারন, ঐ নারীটির আছে বিবেক, আছে মূল্যেবোধ, আছে সংসারের প্রতি নৈতিক দায়িত্ব। হয়তবা তার সার্টিফিকেট নেই। আমি এসব নারীদের বিপক্ষে নই। আবার পক্ষেও নই। কারন, একটি দেশের অর্ধেক নারী। সেই অর্ধেক শক্তি যদি ঘরে বসে আর ক্লাব-জিম করে কাটিয়ে দেয় তবে দেশের কি অবস্থা হয় বলুন তো? আর এই অর্ধেক শক্তির এখন কিছুটা অংশ হয়ত বাইরে বেরিয়েছে কিন্তু এদের সংখ্যা এখনো সীমিত। আর এই সব ধনী পরিবারের নারীরা দেশের অর্থ বিদেশে পাঠাতে স্বাচ্চন্দ্যবোধ করেন। কিভাবে? তারা বিয়ের মার্কেট বলেন বা ঈদ হুটহাট চলে যান বিদেশ। ভরপুর মার্কেট করে ফিরে আসেন দেশের মাটিতে। দেশের জন্য নিয়ে আসেন ময়লা-আবর্জনা। কারন, খাওয়াটা শুধু রেখে দেন এদেশের জন্য….কারন ভোজন বিলাসে বাংলারীর উপর আর কে আছে? এসব ধনী নারীদের বাস্তবতা সম্পর্কে জ্ঞান নেই।দেশের জন্যে এদের মাথা ব্যথা নাই। তবে দু’একজন যে এর ব্যতিক্রম নাই তা কিন্তু ঠিক নয়। আমি একজন রূমানা চেীধূরী’র কথা বলব….তিনি শিল্পপতির স্ত্রী। কিন্তু তিনি কনাডায় থাকেন । তিনি একজন লেখক, তিনি একজন দোভাষী, তিনি জিওগ্রাফীর উপস্থাপক। অথচ কানাডার টরেন্টোতে তার নিজের বাড়ি। বাংলাদেশের কথা না হয় নাই বললাম। আমি একজন রূমানা চৌধূরীকে নিযৈ খুশি নই…আমি প্রতিটি ধনী পরিবারে একটি করে রূমানা চৌধূরী দেখতে চাই।  


গিরগিটি



কিছু না বলা কথা
কতটা আপন ভেবে না হয়
বলেছি তোমায়!
না জেনে তুমি করলে অপমান আমায়!
আমি অতি সাধারন, নগন্য হওয়ায়!
এতটাই অপমান করলে আমায়!
কি জান তুমি?
কতটাই বা চিনেছ আমায়?
যতটুকু বলেছি, ততটুকু শুনেছ
হেয় করতে এক বিন্দুও ছাড়লেনা আমায়!
কখনো কি প্রশ্ন করেছি তোমায়?
কেন এত অপমান করছ আমায়?
আমি কি এতটাই হেলাফেলা?
অপরাধ কোথায়?
ভালোবাসি বলেছি তোমায়?
কি এমন অধিকার আছে?
কথায় কথায় ন্যাক্কারজনক
উপস্থাপন করছ আমায়!
কি ভেবে রেখেছ নিজেকে?
মহা মানব তুমি?
তুমি খুবই সম্মানিত!
কি বলব আমি?
সম্মান দিতে যে জানে না
তার আবার কিসের সম্মান!
কিসের এত অহংকার!
তুমি কি জান না অহংকার
পতনের কারন যে হয়!
অভিশাপ নয়!
এ আমার অর্ন্তদৃষ্টি কয়!
তোমার পতন আমার কাম্য নয়!
কি আছে তোমার?
বাড়ি-গাড়ি-অট্টালিকা?
ওসব টানে না আমায়
সাধারনের মাঝে যদি
অসাধারন হতে পারা যায়!
তবেই জীবন সার্থকময় ।
আমার ভালোবাসা আজ
তোমার অসহ্য মনে হয়!
তবে কেন? বল কেন?
ভালবাসার বীজ বুনতে কত
সহযোগীতা করেছ আমায়!
কত মিষ্টি কথা!
কতইনা গভীর প্রেমালাপ!
ভদ্রবেশি মানুষের মুখোশের আড়ালে
এ কোন দানবের পরিচয় মেলে!
আজ সবই অসহ্য মনে হয়?
মানুষ কেন এত রং বদলায় !!!



নারীর অবস্থান লোকাল বাসে




নারী এখন ঘরের চেয়ে বাইরে থাকে বেশি যারা কর্মজীবী বা ব্যবসায়ী । এদের বেশিরভাগ নারীর বেতন কিন্তু সীমিত। যেহেতু বেতনাদি সীমিত তাই তাকে হিসেব করেই চলতে হয়। সবসময় তাকে লোকাল বাসেই বেশি ভ্রমন করতে হয়। কিন্তু সে ভ্রমনে যে তার কত রকম ভোগান্তির স্বীকার হতে হয় তা একজন নিম্ন আয়ের কর্মজীবি নারীই জানে! লোকাল বাসগুলোর সীট যখন ফিলাপ হয় তখন আর নারীকে উঠতে দেয় না।কারন নারী উঠলে জায়গা আটকে যায় বেশি। তাছাড়া ব্রেক ধরে নামাতে হয় বলে সময় লাগে বেশি। এটি ব্যবসায়িক চিন্তা। কিন্তু কেউ তখন চিন্তা করে না যে একজন নারী বাসায় তাড়াতাড়ি পৌঁছা দরকার কারন তার নিরাপদের ব্যাপার থাকে। লোকাল বাসে মাঝেমাঝে নারী দাড়িয়ে গেলে কিছু পুরুষকে বলতে শোনা যায় কেন উঠছেন। সীট নাই দেখেন নাই? তাদের ভাব এমন যে, নারীর বাসায় যাওয়া কী দরকার? থাকনা সাররাত রাস্তায়? অথচ এই পুরুষটি যখন নিজের বউ বা বোন বা মাকে নিয়ে বাসে উঠে
তখন ড্রাইভারকে অনেক বকাবাজি করে তাকে সুন্দরভাবে নামিয়ে না দিলে ! আশ্চর্য মানব! নিজের বেলায় ষোল আনা বোঝে, অন্যের বেলায় নয়! একদিনের একটি ঘটনা বলি, ফার্মগেট থেকে একটি লোকাল বাসে আমি যাচ্ছিলাম মতিঝিল। আমি ড্রাইভারের পিছনের প্রথম সিট দু’টির প্রথমটিতে বসা ছিলাম। পাশে ছিল এক ভদ্রলোক। কাওরান বাজার আসতে না আসতেই পুরো বাস ভরে গেল। কিছু মেয়ে দাঁড়িয়ে যাচ্ছিল। একটি মেয়ে আমার পাশে গা ঘেষে সুন্দর মতো দাঁড়িয়েছিল। মেয়েটির পাশে একজন ভদ্রলোক ছিল মধ্যবয়ষী! ব্রেক হলেই ভদ্রলোক মেয়েটির গায়ে পরে আর মেয়েটি আমার উপর আর আমি ঐ পাশে বসা ভদ্রলোকের উপর! কয়েকবার দেখার পর আমি উঠে দাড়ালাম শাহবাগ গিযে। মেয়েটি বসার জন্য উদগ্রীব হলো। আমি বললাম, আমি নামব না, তুমি বস না। মেযেটি চুপ করে দাড়িয়ে রইল। মেয়েটির পাশের লোকটিকে বললাম, ভাইয়া আপনি মনে হয় অসুস্থ বসুন আমি দাড়িয়ে যেতে পারি। আমার দাড়িয়ে যাবার অভ্যেস আছে। লোকটি বলল, আমি অসুস্থ নই, আপনি বসুন। আমি বললাম, আমি জানি আপনি অসুস্থ প্লিজ বসুন। লোকটি এবার ক্ষেপে গিয়ে আশেপাশে দু’একজনকে বলল, দেখেন তো আজব মহিলা! আমি বলি সুস্থ আর সে বলে আমি নাকি অসুস্থ ! লোকজন তো সব আমার দিকে বিরক্তের চোখে তাকাল! আমি বললাম, ভাইয়া আপনি তো শারীরিক অসুস্থ নন, আপনি মানষিকভাবে অসুস্থ। তাই ব্রেক ধরলেই আপনি বামে নয়, সামনে নয়, পিছনে নয়, শুধু ডানে পরে যান। কারনটা কি? তখন সবাই চুপ! আর কেউ কেউ ঐ লোককে দু’একটা নীতিবাক্য শুনিয়ে দিলেন বটে। লোকটি ইজ্জত বাঁচানোর জন্য মৎস্য ভবনের ওখানে নেমে গেল। টিকেট কেটেছিল সচিবালয় পর্যন্ত।
সর্বশেষে, আমি বলতে চাই নারী তোমারও দোষ আছে। অন্যায় যে করে আর অন্যায় যে সহে উভয়ই সম-অপরাধী! অন্যায় হলে প্রতিবাদ করো।প্রতিবাদে ইজ্জত যায় না বরং চুপ করে ব্যাড টাচ তুমি সয়ে যাচ্ছ আর আরেকজনকে বারবার অন্যায় করতে উৎসাহিত করছ। তাই তুমিও অপরাধী। তুমিও পরিবর্তন হও, তোমার আছে মানষিক সমস্যা। পরিশেষে, একটি কথাই বলতে চাই আমাদের সাধারন মানুষের মাঝে এখনো আছে বিবেক বোধ। আমি দেখেছি পথে ঘাটে এভাবে প্রতিবাদ করলে আমার পাশে অনেক পুরুষকে পাই। তার মানে সব পুরুষ এক নয়। এদের সংখ্যা সীমিত। এদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়ালে তুমি-আমি-আমরা সবাই একটি সুন্দর পরিবেশ তৈরি করতে পারব এ আমার দৃঢ় বিশ্বাস।

নারীর জন্য আবাসিক হোটেল






নারী এখন ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে, বিমানে, সংসদে। প্রশ্ন জাগে নারী নেই কোথায়! কাজী নজরুলের ভাষায়, এ পৃথিবীতে যা কিছু মহান সৃষ্টি চির কল্যানকর, অর্ধেক তার আনিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর। পুরুষ যেখানে, নারী সেখানে। সংখ্যায় হয়তবা নারী কম তাই বলে এমন নয় যে নারী কোথাও নেই। নারী আছে, নারী ছিল এবং ভবিষ্যতেও নারীর সংখ্যা বাড়বে ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে, বিমানে, সংসদে । এটি প্রত্যাশা নয়, এটি বিশ্বাস। এটি ইতিহাস, এটি নারীর যোগ্যতা, এটি নারীর প্রতিজ্ঞা। নারী এখন কোন কিছুর ভয়ে ভীত নয়, নারী মাথা উচু করে চলতে শিখেছে, নারী প্রতিবাদ করতে শিখেছে। তাই নারীর সামনে অগ্রসর হবার দিন এসেছে, পিছন ফিরে তাকাবার দিন শেষ হয়েছে। নারী অতীতের সব লাঞ্চনা, বঞ্চনা, অপমান ভুলে যায়নি তারা তা মনে গেঁথে রেখে সব কিছুকে অগ্রাহ্য করে নিজের মতো জতৎ তৈরি করছে । তারপরও পদে পদে নারী বাঁধাগ্রস্থ। যেখানে যায় সেখানেই কিছু না কিছু সমস্যা থেকেই যায়। আমাদের দেশে মাইলফলকের মতো ইতিহাস আছে। সরকার দলীয়, বিরোধীদলীয়, গুরুত্বপূর্ন মন্ত্রীত্ব, স্পীকার ইত্যাদি পদে নারী ! এও কি ভাবা যায়! ক’টি দেশ এমন করতে পেরেছে? হয়ত একটিও না। এ আমার গর্বের বিষয়! এমন দেশটিতে আমি একজন নারী হয়ে জন্মেছি! তারপরও আমি কি সবখানে নিরাপদ? কেন নিরাপদ নয়? কিছু সু-ব্যবস্থার অভাবে। কিছু সত্যিকার পরিকল্পনার অভাব। যা আমাদের পদে পদে বাঁধা। নারী যেহেতু  এখন ঘরে, বাজারে, অফিসে, ব্যবসায়, আদালতে, বিমানে, সংসদে। তাহলে নারী তো তার প্রয়োজনে এক জেলা থেকে আরেক জেলা, এক থানা থেকে আরেক থানা, এক সিটি থেকে আরেক সিটিতে যাবেই তার কাজের জন্য! তখন কেন তার জন্য দেয়া হয় না হোটেল ভাড়া?জানি এমন না হয় কম্বাইন হোটেল থেকে সকালে বেরুলে সামনের চায়ের দোকানের বসে থাকা লোক গুলি বাঁকা চোখে মুচকি হেসে দেখে। কেন নারী কি একা হোটেলে একটি রাত থেকে পরের দিনের তার কাজ শেষ করতে পারবে না? তাহলে কেন তার সহ্য করতে হবে মুচকি হাসি? যে হাসি কথা বলে অপমানের, লাঞ্চনার। তাহলে নারীর জন্য কেন সামান্য আবাসিক হোটেলের সুব্যবস্থা নেই? তবে এত বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত হয়ে নারী সমাজের কি লাভ হলো?কম্বাইন আবাসিক হোটেলেগুলোতে যদি নারীকে এলাউ না করা হয় তবে আমার দাবী প্রতিটি থানায়, প্রতিটি জেলায়, প্রতিটি বিভাগে নারীদের জন্য সরকার কর্তৃক আবাসিক হোটেলের ব্যবস্থা করা হোক।

বুধবার, ২৯ জুন, ২০১৬

অনুভূতি

প্রেমে সৃস্টি জগত সংসার
প্রেমই আসল ধর্ম
আমি অধম কপাল পোড়া
বুঝলাম না প্রেমের মর্ম।
তুই তো ছিলি আমারই গো
আমি ছিলেম তোর
কপাল গুনে তুই রাজা
আমি হইলাম চোর।
ভবের ঘাটে চোর হইলাম
বুঝলাম না তোর বাও
অনভূতি বলে দেখা দিও
দুঃখ যাতনা যতই দাও।
আজ তুই পাও ভয়
ভালোবাসায় ভয় !!
তোকে বোঝা বড় দায়!
চুপিসারী কও যে কথা
দাও নিজের অজান্তে ব্যথা !
বুঝতে তোর হয়না দেরি!
মানাতে তুই ঘরে এলি!
তুই এবার তাহলে মেনে নিলি ?
তুই তো ছিলি আমারই গো
আমি ছিলেম তোর !!!

একজন কর্মজীবি “মা”

”মা “ ডাকটি শোনার জন্য একজন “মা” সেই প্রথম যেদিন বাচ্চাটি পেটে আসে সেদিন থেকে কত যন্ত্রনাই যে ভোগ করতে হয় তা একজন মা-ই জানে। এটি পৃথিবীর কোন পুরুষ কল্পনাও করতে পারবে না । তাতে সে তার স্ত্রীকে বা প্রেয়সীকে যতই ভালবাসুক। এ এক মায়ের কস্টের মাঝে সুখের অনুভূতি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী আমরা জানি ১০ মাস ১০ দিন বাচ্চা পেটে মা ধারন করে। আমি জানি না এ তথ্যটি কোথা থেকে এসেছে বা কীভাবে এসেছে? সত্যি কথা হলো কোন বাচ্চাই ১০মাস ১০ দিন পরে নয় বরং ৯ মাস ১০ দিন পরে বা আগে জন্ম হয়!শিশুটি জন্ম নেবার পর মা তার সমস্ত কস্ট বা বেদনা সত্যি এক মুহুর্তে ভুলে যায়। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য নয় মাসের সে কি যন্ত্রনা তা কি করে একটি বাচ্চার মুখ দেখার সাথে সাথে একজন মা’ ভুলে যায়? মনে হয় কি যেন জয় করেছি? আমি অনেক কিছু পেয়েছি। তবে এর সাথে এটিও কিন্তু সত্যি কথা প্রথম সাত দিন খুব একটি মায়া হয় না….অনেকে হয়ত ভাববেন সেটি কি করে হয় ! এটাই হয়…এরপর সাত দিন যেতে না যেতেই কেমন একটি টান….কেমন অনুভব মনে হয় কলিজার সাথে সম্পর্ক! বাচ্চা যখন কেঁদে ওঠে তখন কিসের আগুন আর কিসের পানি? দৌড়ে বাচ্চার কাছে না আসতে পারলে সে যে কী অস্থিরতা ঘিরে ফেলে সমস্ত শরীরে তা বলে বোঝানোর বিষয় নয়! এ এক অন্য অনুভূতি। এ এক মায়ের অনুভূতি। মা' কথাটি বা শব্দটি এই পৃথিবীর সবচেয়ে আপন। সন্তানের প্রতি মায়েরই থাকে নিস্বার্থ ভালবাসা ! সন্তানের জন্য ব্যাকুল থাকে মায়ের মন।এই ধরনীর সকলেই মায়ের আদরেই বেড়ে উঠতে চায়। ঠিক তেমনি ভাবে মায়ের আদর, স্নেহ, আর অকুন্ঠ ভালবাসা সকলের মানব হৃদয়কে উদ্বেলিত করে তুলে। একজন মা' অনেক চড়াই উৎরাই পাড়ি দিয়ে সন্তানকে আদর , মমতা আর সোহাগ দিয়ে মানুষ করার প্রানান্তকর চেষ্টা করে থাকে। আর এই মায়েদের মধ্যে একটি বিভাজন আছে বলে আমি দেখি। তা হল- মা- আর চাকুরী জীবি মা !
মা ঃ অনেকেই বলেন, একজন ঘরে থাকা মা সন্তানের জন্য বেশি কল্যানকর। অনেকটাই যে কল্যানকর তা আমিও অস্বীকার করব না। একজন গৃহিনী মা’ তিনি সবসময় বাচ্চার সাথে থাকেন। বাচ্চাকে স্কুলে ড্রপ করেন আবার স্কুল থেকে নিয়ে আসেন। স্কুল ছুটির পর বাচ্চাকে নিয়ে কোথাও বসে ফুসকা খান। বাচ্চাকে হাতে তুলে খাওয়ান হোক না সে কলেজ পড়ুয়া ছাত্র !বাচ্চা রোদে পুড়ে স্কুল থেকে আসলে মাথা ব্যথার কথা শুনলে মা’ সব কাজ ফেলে মাথাটাও টিপে দেন। শীতে ঠান্ডা লাগবে বলে নিজ হাতে কুসুম গরম পানি বাথরুমে রেখে আসেন। এই ঘরে থাকা মায়ের আদর স্নেহে বড় হয়ে ওঠে তার সন্তান। এই বাচ্চাটি হয়, আবেগী, আদব কায়দা শিখে মায়ের মতো, সবকিছু চলে রুটিন মাফিক। মায়ের আদর বেশি পায় বলে এটি তার যেমন সৌভাগ্যের ব্যাপার তেমনি এর একটি খারাপ দিকও আছে। মায়ের আদরে বেড়ে ওঠা বাচ্চাটি পরনির্ভরশীল হয়ে ওঠে। সব কাজ মা করে দেয় বলে সে নিজে কোন কাজ করতে শেখে না। প্রাকটিকাল খাতা হোক বা আর্ট সবকিছু্ মা জানে বাচ্চাটি নয়। কোন অভিভাবকের সাথে কথা বলে কোন নোট শীট কালেক্ট করা সেটাও মায়ের কাজ ।ফলে সন্তানটি জানে না কারো কাছ থেকে কীভাবে বা কি কথা বলে একটি শীট বা প্রয়োজনীয় নোটটি আনতে হবে। অর্থাৎ একজন মায়ের আদরে বেড়ে ওঠা সন্তানটি আদর ভালোবাসায় বেড়ে উঠলে পরনির্ভরশীল থাকে বেশি। এক্ষেত্রে মায়েদের একটু সচেতনতা জরুরী বলে আমি মনে করি।
কর্মজীবি মাঃ অনেকেই বলেন, একজন ঘরে থাকা মা’ আর একজন কর্মজীবি মা’ এর মাঝে অনেক পার্থক্য আছে। কিছুটা যে আছে তা আমিও অস্বীকার করব না।একজন ঘরে থাকা মা’ যেমন সন্তানকে আদর সোহাগ দিয়ে, মনের মতো পছন্দের রান্নাটি করে খাওয়াতে পারেন তা একজন কর্মজীবি মা পারেন না। একজন কর্মজীবি মা যেমন তার সন্তানকে ২৪ ঘন্টা হয়তবা সময় দিতে পারেন না কিন্তু যতটুকু সময় পান তা সন্তানকে দেয়া থেকে কখনোই বঞ্চিত করেন না। তেমনি অফিসে বসে কতদিন যে তার দুপরের খাবারটা বক্স ভরেই বাসায় ফিরে এসেছে বা অফিসের কোন স্টাফের খাবার হয়েছে তা একজন কর্মজীবি মা’ ই জানে। অফিস প্রোগা্রমের অনুষ্ঠানে যখন নিজ সন্তানের প্রিয় খাবারটা থাকে মেন্যুতে তখন চোখের কোনে একফোটা জল এসে কখন যে নিজের অজান্তেই জমে যায় তা একজন কর্মজীবি মা’ই জানে। কত কস্টে সেই খাবারটা তার খেতে হয় সমাজ রক্ষার জন্য ! আর কেউ জিজ্ঞেস করলে, চোখের পানি ট্যিসু দিয়ে মুছে আর একজন কর্মজীবি মা’ বলে চোখে একটা ময়লা গেল। অফিস সহকর্মীরা যখন কাজের মেয়ে দ্বারা কিভাবে সন্তান নির্যাতীত হয় তা আলাপ চারিতা করে তখন একজন কর্মজীবিই মা’ জানে কিভাবে তার শ্বাস আটকে যায় ক্ষনে ক্ষনে।অফিস ছুটির কিছুক্ষন আগে আসার জন্য একজন মা’ যে কত ছটফট করে তা একজন কর্মজীবি মা’ ই বোঝে! ১০ টি মিনিট আগে যখন অফিস থেকে বের হতে পারে তখন সে কি আনন্দ তা কি করে বোঝান সম্ভব! এ কি খুব বেশি পাওয়া! কেউ হয়ত অলস সময় পার করে আর কারো কাছে ১০ টি মিনিট কত আনন্দের!বাসায় ফিরে ড্রেসটা কোন রকম পরিবর্তন করতে না করতেই বা্চ্চা খেল কিনা, গোসল করল কিনা, কোথাও কোন আঘাত পেল কিনা খবর নেয়া শুরু করে চলে যাওয়া হয় রান্না ঘরে। কালকের জন্য আবার সন্তানের খাওয়া, পরার হিসেবটা করতে হয় রাতের মধ্যেই। অথচ অফিস থেকে এসে হয়ত নিজের মুখটা ধোয়ার সময়টাও জোটেনি কপালে ।একজন কর্মজীবি মায়ের সন্তান পরনির্ভরশীলের চেয়ে আত্মনির্ভরশীল বেশি হয়ে উঠে। যা তার ভবিষ্যেতের জন্য ভাল ভূমিকা রাখে। কারন ছাড়া যেমন কোন কিছুই ঘটে না তেমনি একজন মা’ কর্মজীবি কেন হয় তার পিছনেও থাকে তার নানান কারন। এক কথায় তা ব্যাখ্যা দেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। হয়ত আজ যিনি কর্মজীবি মা’ কয়েকটা বছর আগেও তিনি ছিলেন কারো মেয়ে। তাই অনেক নারীর কর্ম করতে হয় পরিবারের জন্য বা কেউ করেন তার নিজ পরিবারের জন্য বা কেউ করেন তার সন্তানের ভবিষ্যতের জন্য বা কেউ করেন তার পরিবারে সে একাই উপার্জনক্ষম ব্যক্তি বলে ! তারচেয়ে বড় কারন হিসাবে আমি যেটাকে প্রাধান্য দিব, একজন কর্মজীবি মা’ ও এক সময় পড়াশুনা করেছেন, স্বপ্ন দেখেছেন নিজের জন্য, পরিবারের জন্য এবং দেশের জন্য..তাই তো মনোযোগ দিয়ে পড়াশুনা করেছে..আজ একজন মা’ হয়েছেন বলে তাকে কেন সব ইচ্ছাকে বিসর্জন দিতে হবে? কেন? সব সময় একজন মা’কেই কেন সমাঝোতা করতে হয় তার সবকিছুতে হোক সেটি ছোট চাওয়া বা স্বপ্ন !
পরিশেষে, আমি বলতে চাই সবার উদ্দেশ্যে কর্মজীবি মা’ একজন ঘরে বসে থাকা মায়ের চেয়ে অনেক বেশি দায়িত্ব পালন করে বলে তার কিছুটা ভুল ত্রুটি হয়তবা থেকে যায়! তাই বলে আমরা যেন একজন কর্মজীবি মা’কে অবমূল্যায়ন না করি! মনে রাখতে হবে…মায়ের কোন বিভাজন হয় না…..মায়ের তুলনা শুধু মা-ই।