শুক্রবার, ১৩ জানুয়ারি, ২০১৭

সুইট হোম

পরিবার বলতে মা-বাবা ভাই বোনকেই সাধারণত বুঝে থাকি। অনেক সময় বলি, সেই সন্তান দুর্ভাগা যারা মা নেই অথবা বাবা নেই অথবা পুরোপুরি এতিম।
একটি সন্তানের জন্য তার মা-বাবার ভালোবাসা দরকার। বেড়ে ওঠার জন্য মা-বাবার ভালোবাসা তাকে ইতিবাচক মনোভাব করে গড়ে তুলে হয়ত মনে হতে পারে। কিন্তু প্রশ্ন হলো সেই মা-বাবা ক’জন আছেন?
দু’টি দু’পরিবারের সদস্য মিলিত হলেই হয়ে যায় স্বামী - স্ত্রী এক কথায় দম্পতি। এরপরেই তো মা-বাবা হয়ে যান। ভালোবাসা যদি থাকে এক দু’বছর। তাহলে মা-বাবা হিসেবে কিইবা দিবেন সন্তানকে?
অথচ যখনই কোন ডিভোর্সের কথা আসে বা সেপারেট থাকার কথা আসে তখনই আমরা সবাই বলি সন্তানের জন্য মা-বাবা একঘরে থাকা জরুরী। যদিও এই কথাটি আমিও অস্বীকার করছি না। কিন্তু মা-বাবা হয়ে এক ছাদের নীচে থেকেও যদি আজনবির মতো বসবাস করি বা সন্তানের সাথে কমিউনিকেশন খারাপ থাকে অথবা সারাদিন ঝগড়াঝাটি করি তবে সেই লোক দেখান সম্পর্ক রাখা কি জরুরী? আপনি কি জানেন যে ঘরে মা-বাবা সারাদিন মনোমালিন্য থাকে সেই ঘরের বাচ্চা আতংকিত থাকে? যদি না জেনে থাকেন তবে দেখবেন সে মানসিকভাবে একটি অসুস্থ বাচ্চা হয়ে যাবে। যদিও বিধাতা আপনাকে কিন্তু একটি সুস্থ বাচ্চাই দিয়েছিলেন। আপনি তার আমানত লালন করতে পারেননি। তখন কি আপনার নিজেকে ব্যর্থ মনে হবে না?
মানুষের মন বড়ই বিচিত্র। তাইতো আমরা..একবার ভুল বোঝাবোঝি হলে সেই রেশ আর কাটাতে পারি না। কিছুতেই পুরানো কথা ভুলতে পারি না যদিও আমরা সৃষ্টির শ্রেষ্ঠ জীব।
এমন অনেক বাবা আছেন যিনি সন্তান একাই লালন পালন করেছেন। প্রশ্ন হলো মা কই? মা হয়ত কারো হাত ধরে পালিয়েছে অথবা সেপারেট থাকছে অথবা অসুস্থ অথবা মরে গেছে।
আবার এমন অনেক মা’ আছেন যিনি একাই সন্তান লালন পালন করছেন।প্রশ্ন হলো বাবা কই? বাবা হয়ত অন্য কারো সাথে জীবন নতুন করে সাজিয়েছেন অথবা সেপারেট থাকছে অথবা মরে গেছে অথবা অসুস্থ।
নারী যখন একা ভরণ পোষন করেন তখন সে যেমন নানান অসুবিধাসহ তাকে রোবটের মতো সব মেইনটেইন করতে হয় তেমনি একজন বাবা যখন একা লালন করেন তখন তার আরো বেশি ভোগ পোহাতে হয়। কারন, বৈশিস্ট্যগতভাবেই নারীর কাজগুলো বাবাদের সামলাতে একটু সমস্যাই হয় ঐ দিকে কম জ্ঞান থাকার কারণে।
এতো কথা কেন লিখছি?
একটি কথা না বললেই নয়---ঘর। যে ঘরে আমরা থাকি। মনের মতো ফার্নিচার দিয়ে সাজাই। দামী কার্পেট। ওয়ালে কত কি? টিভি, ফ্রিজ, সোপিজ, সোফা উফ নাম মনে নেই।
কেউ বলে “ সু্ট হোম” আর কেউ বলে “ মেনটাল হোম। মনে হতে পারে সউট হোম যিনি বলেছেন তিনি সঠিক। সত্য তো এটাই আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষের ঘর এখন আর ঘর নেই।
যেসব নারী নিজে সন্তান ভরণ পোষন করেন তাদের ক্ষোভ বেশি থাকে সন্তানের বাবার উপর। কারন, বাবা হয়ে সে কেন একা সব করবে? তাই অনেকে দেখি জন্ম সনদে বাবার নাম না লেখার জন্যও বলে থাকেন। তাদের আমি একটি প্রশ্ন করতে চাই কিন্তু কেন?
উত্তরে আপনি হয়ত বলবেন, কাজে লাগেনা বাবা থাকার কি দরকার? প্রশ্ন ঠিক থাকলেও আমি আপনার সাথে একমত নই। কারন, সন্তান এলো কি করে? স্বামী-স্ত্রীর চরম ভালবাসার উত্তেজনার একটি মুহূর্তেই এই সন্তানের সৃষ্টি। তাহলে তখন কেন ভাবেননি ভবিষ্যতে কি হবে? কেন আপনি ভেবেছেন যে, বাবা সবকিছু করবে? আপনার ভাবনাটা কি এক তরফা আপনার দিকে ছিলো না? সুখ তো আপনিও সমানে সমান উপভোগ করেছেন তবে দায়িত্ব করতে এসে কেন এত টায়ার্ড?
আমরা কিছু জিনিসে পাশ্চত্য দেশগুলি অনুসরণ করি। তার বেশিরভাগই যেটা আমাদের ঐতিহ্যের বিপরীতে যায় সেটি। কিন্তু যে গুলো অনুসরণ করলে আমরা আমাদের ঐতিহ্য ধরে রেখে সত্যিকার অর্থে একজন মানুষ বলে নিজেকে দাবী করতে পারব সেখান থেকে অনেক পিছিয়ে।
তাহলে আসুন পাশ্চত্যের অন্তত একটি জিনিস অনুসরণ করি? মুখ খুলে বলি, আমি সিঙ্গেল নারী । এই বলাতে যেন থাকে আত্ম-অহংকার এবং আত্ম-সম্মান।
পরিশেষে, আমি বলব...ক্যান্সার হলে কেটে ফেলুন। যতদিন বাঁচবেন মাথা উচু করে বাঁচুন। দায়িত্ব করে তা বারবার মুখে বললে সেটার মান কমে যায়। তাই দায়িত্ব করুন মুখ বুঝে যতটুকু সহে।
সবশেষে কথা একটাই......আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখে। আপনার ত্যাগ আপনি কেন! আরেকজনকে বলতে দিন। জানেন তো মরার পরেই মরনোত্তর মেডেল মিলে?

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন