শুক্রবার, ৭ অক্টোবর, ২০১৬

মানুষের পরিবর্তন হয় তাই বলে এত দ্রুত?


প্রথমে আমরা খাদিজাকে নিয়ে মর্মাহত হয়েছি, হয়েছি পীড়িত। প্রতিবাদ করেছি যে যার অবস্থান থেকে।
এরপর শুরু ছাত্রলীগ সহ বদ+ রুল=বদরুল টাইপ স্টেটাস নিয়ে !
এরপর শুরু হলো সেলফি রাজনীতি।
এখন খাদিজার সাথে প্রেম ছিলো কি ছিলো না এটি নিয়ে?
আচ্ছা, আমি যদি প্রশ্ন করি কে কে খাদিজার গ্রামে গিয়েছিলেন ?
উত্তরে ক’জন যে হা বলবেন এটি যেমন আপনি জানেন তেমনি আমিও জানি।
এখন প্রশ্ন হলো এসব কথা কোথায় পেয়েছেন? উত্তরে হয়ত কেউ কেউ বলবেন নেটে পেয়েছি অমুক আইডির কাছ থেকে। সেই আইডিধারীকে যদি জিজ্ঞেস করি, অাপনি এ খবরটি কোথায় পেলেন? উত্তরে সে বলবে অমুকের কাছ থেকে কপি করেছি।অর্থাৎ এভাবে চলতেই থাকবে কিন্তু কেউ গ্রামে গিয়ে সংগ্রহ করেছে সেই ব্যক্তিটির কাছে আমরা আদৌ পৌঁছতে পারব কিনা সন্দেহ !!!
এখন আসি আপনাদের কথায় ধরুন ছয় বছর বা কম বা বেশি প্রেম ছিল। মেনে নিলাম ছিল। এখন প্রশ্ন, ছেড়ে দিল কেন? উত্তরে দু’টো জিনিস আসতে পারে।
১। খাদিজা ভাল মেয়ে না বা সে অন্য কারো সাথে আবার নতুন করে মিশছে।
২। বদরুল ছেলে ভাল না এটি খাদিজা বুঝে গেছে।
যদি প্রথম কারণটি সঠিক হয়, তাহলে অাপনি কি মনে করেণ যে, এই কারণে খাদিজাকে কোপানো উচিত? আমি মনে করি এই কারণে নিশ্চয়ই খাদিজাকে কোপানো উচিত না। কিন্তু বদরুল কোপাল। তার মানে কি দাঁড়াল? এটি ভালোবাসা? নো নো নেভার। এটি শরীরের মোহ। অর্থাৎ ওকে ভালবাসি তাই ওর শরীরটি আমারই চাই--চাই-ই-চাই। অর্থাৎ বিকৃত ভালোবাসা।
যদি দ্বিতীয় কারণটি সঠিক হয় তবে আপনি কি মনে করেন না যে খাদিজা ঠিক করেছে?
আমি মনে করি যে কারণেই খাদিজা বদরুলকে ত্যাগ করেছে বদরুলকে ত্যাগ করে সে সঠিক ডিসশানই নিয়েছিল। কারণ, যে ব্যক্তিটি ত্যাগ করাতে কোপাতে পারে তার সাথে ঘর বাঁধলে কি ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারতো, তা কি একবারও ভেবেছেন? তার মানে দাঁড়াল খাদিজা বুদ্ধিমতি, খাদিজা মানুষ চিনে। বদরুল এর ভয়ংকর রূপ হয়ত আপনি আমি খাদিজাকে কোপানোর পরে দেখেছি কিন্তু খাদিজা দেখেছে অনেক আগে।
আমি আসলে সঠিক কোনটাই জানি না খাদিজার সাথে বদরুলের সম্পর্ক ছিল কি ছিল না। কিন্তু নেটে অনেকের লেখা দেখে আমি হতাশ। কি করে মানুষ শুনা কথার উপর ভিত্তি করে এভাবে লিখতে পারে? কেউ কেউ তো লিখছেন ভালই করেছে---তারা কেন লিখছেন সেটাও বুঝার মতো বয়স আমাদের হয়েছে। এর মানে তাদের জীবনের সখিনা, জড়িনাও তাকে ছেড়ে দিয়েছেন। তাই আপনাকে বলি এত বড় জঘন্য কাজকে যারা বলেন ঠিকই করেছে তাদের আমি বলব, ছেড়ে গেছে যারা তারাও ঠিকই করেছে।
ভাললাগা থেকে ভালবাসা তৈরি হয়। প্রথমে দর্শন থেকেই বেশির ভাগ ভাললাগা তৈরি হয়। তারপর একসাথে চা খাওয়া, কফি খাওয়া, ঘুরা ফিরা ইত্যাদি। এটি মোটেও ভাবা ঠিক না যে একসাথে চা খেয়েছে বলে আর ছেড়ে যাবে না। কারণ, ভাললাগা দর্শন থেকে শুরু হলে ভালোবাসা ধাপে ধাপে বাড়ে। আর সে ধাপ তখন আচার, ব্যবহার, কথাবার্তা, সব কিছু থেকে হয়। তাই দেখা যায়, প্রেমিক বা প্রেমিকার সবচেয়ে অপছন্দটাই যদি হয় আপনার পছন্দ তবে সে থাকবে না, ছেড়ে চলে যাবে। আজকাল অার সেই জমানা নাই .এখন সবাই সুদূঢ়প্রসারী চিন্তা করে।
পরিশেষে বলব, চিলের পিছনে না ছুটে কানে হাত দিয়ে দেখা উচিত কান আছে কিনা। আর কতো হুজুগে নাচব। সমাজে বাস করি আমরা। তাই একের ব্যবহার বা কথা অন্যের উপর প্রভাব ফেলে। তাই এমন কিছু করা বা বলা ঠিক নয় যা সমাজের জন্য ক্ষতিকর, পরিবারের জন্য লজ্জাকর এবং জাতির জন্য অন্ধকার।
সবার সুস্থতা কামনা করি।
ধন্যবাদ।

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০১৬

ইতিবাচক হোন

কেউ চুল বেঁধে টাকা লয় আর কেউ চুল বেঁধে বাইরে বের হয়।
কাজ দু’জনের এক হলেও উদ্দেশ্য এক নয় ।
যেমন ধরুন ---আপনি একজন ব্যবসায়ী । মনে করেন, আপনি অনেক বড় একটি কাজ পেলেন। যেই কাজ সম্পন্ন করতে হলে আপনাকে একটি রাস্তা দিয়ে যেতে হবে। আপনার গন্তব্যে যেতে হলে একটা রাস্তাই আছে আর কোন বিকল্প নাই। আপনি যে রাস্তায় যাবেন সে রাস্তার কিছুদূর যাবার পরে ধরেন একটি পতিতালয়। আর আপনাকে আপনার গন্তব্যে যেতে হলে ঐ পতিতালয়ের উপর দিয়েই যেতে হবে। এখন ভাবুন যদি কোন পরিচিত লোক আপনাকে দেখেই ফেলে তখন আপনাকে কি ভাববে?
আপনি যদি মহিলা হোন তাহলে পরিচিত বা আত্মীয় (বেশিরভাগ) ভাববে আপনি যৌনকর্মী আর আপনি যদি পুুরুষ হোন তাহলে ভাববে আপনি খদ্দের।

এখন আপনি কি করবেন?
আপনি রাস্তা খারাপ বলে যাবেন না?
নাকি এতদিনের সাধনা পূরণ করার জন্য ঐ পথটিতেই যাবেন যেখানে আপনার সফলতা । হোক না রাস্তা কিছুটা মন্দ ?
আমি মনে করি, একজন ইতিবাচক মনোভাবের মানুষ আপনার পথচলা নিয়ে কখনোই আপনাকে কটুক্তি করবে না। কারন তিনি আপনাকে বিচার করবেন আপনার কর্ম এবং আচরণ এবং আপনার অতীত, বর্তমান ব্যবহার দেখে।আর একজন নেতিবাচক মানুষ নেতিবাচকই ভাববেন।কারন, ভাবনা যার যার। এখানে কারো হাত নেই।
প্রশ্ন হতে পারে আপনি কি করবেন?
আমার মতে আপনি নিজেকে নিশ্চয়ই চিনেন ? যদি সেটাই হয় তবে আপনি তাই করুন যেটি সততার পথ বা সঠিক পথ। রাস্তা দিয়ে কি আসে যায়? আর কে কি বলল তাতে কি? আপনার বাসার চালটা তো আপনাকেই কিনতে হয়? বাসা ভাড়াটাও নিশ্চয়ই আপনিই দেন? তাহলে ইনকামটাও অাপনাকেই করতে হবে। তাই তথাকথিত লোক চক্ষুর ভয়ে নিজের পথে নিজে কেন কাঁটা ফেলবেন?
আপনি নিশ্চয়ই আল্লাহ, সৃষ্টিকর্তা, যীশু, ভগবান ( যে যার ধর্মে) বিশ্বাসী? তাহলে সৃষ্টিকর্তা জানেন সব। তিনি সব দেখছেন। যদি ভয় করেন তবে তাঁকে ।।
মানুষকে ভয় করার কোন দরকার নেই।
ধন্যবাদ।
ভাবনা যার যার।
মতামত আপনার।